প্রিয় নবীর মাক্কী জীবন

প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র মাক্কী জীবন

২. শৈশব ও যৌবন

প্রশ্ন-৩০, বাল্যকালে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কী করতেন?

 

উত্তর: বাল্যকালে তিনি অধিকাংশ সময় ভেড়া চড়াতেন।

 

প্রশ্ন-৩১. তিনি কি কখনও তাঁর বয়সী কোনো ছেলে-মেয়েদের সাথে কোনো বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন?

 

উত্তর: তিনি দুষ্টামিপূর্ণ কোনো কিছুই কখনও করেন নি এবং তাঁর বয়সী ছেলে-মেয়েরা যেমন খেলাধুলা করত তাতেও তিনি অংশ নিতেন না।

 

প্রশ্ন-৩২. আব্দুল মুত্তালিবের ইন্তিকালের পর কে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দেখাশুনা করেন?

 

উত্তর: তাঁর চাচা আবু তালিব।

 

প্রশ্ন-৩৩. কখন এবং কার সাথে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিরিয়া ভ্রমণ করেন?

 

উত্তর: যখন তাঁর বয়স বার বছর তখন তিনি তাঁর চাচা আবু তালিবের সাথে সিরিয়া ভ্রমণ করেন।

 

প্রশ্ন-৩৪. সফরকালে কোনো বিশেষ ঘটনা ঘটেছিল?

 

উত্তর: কাফেলা যখন বসরা নামক জায়গায় পৌছল সেটা ছিল শাম রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হুন্নানের কেন্দ্রিয় শহর তখন সেই শহরে অবস্থানরত বুহাইরা নামক এক সন্ন্যাসী তাদেরকে গাছের নিচে আশ্রয় নিতে দেখল। এরপর বুহাইরা আবু তালিবকে বলল তোমার ভাতিজা সকল মানবজাতির নেতা হবে। তাঁকে আল্লাহ এমন এক ঐশী বাণী দান করবেন, যা সমগ্র মানবজাতির জন্য হবে পথ ও পাথেয়। বুহাইরা আবু তালিবকে আরো বললেন যে, আপনি একে নিয়ে শায় দেশে ভ্রমণে যাবেন না। কারণ সেখানের ইহুদী ও রুসীগণ এর পরিচয় পেলে একে হত্যা করে ফেলতে পারে। এজন্য আবু তালিব তাঁকে মক্কায় পাঠিয়ে দেন।

 

প্রশ্ন-৩৫. দ্বিতীয়বার কখন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিরিয়া সফর করেন এবং কেন?

 

উত্তর: যখন তার বয়স ২৫ বছর তখন তিনি খাদিজা -এর ব্যবসায়িক কাজে দ্বিতীয়বারের মতো সিরিয়া যান।

 

প্রশ্ন-৩৬. খাদিজা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু-কে ছিলেন?

 

উত্তর: খাদিজা ইবনে তে খুওয়াইলিদ ছিলেন আরবের একজন স্বনামধন্য ধর্নাট্য ব্যবসায়ী।

 

প্রশ্ন-৩৭. মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে খাদিজার পক্ষ থেকে কে এসেছিলেন?

 

উত্তর: তার বান্ধবী নাফিসা।

 

প্রশ্ন-৩৮. বিয়ের জন্য খাদিজা কেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বেশি পছন্দ করলেন?

 

উত্তর: মুহাম্মদ-এর সত্যবাদিতা এবং সদ্ব্যবহারই খাদিজা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা-কে আকৃষ্ট করেছে।

 

প্রশ্ন-৩৯. মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তিনি কখন বিয়ে করেন?

 

উত্তর: যখন তাঁর বয়স চল্লিশ তখন তিনি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বিয়ে করেন।

 

প্রশ্ন-৪০. মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খাদিজা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা-কে বিয়ে করেন তখন তাঁর বয়স কত ছিল?

 

উত্তর: তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র পঁচিশ বছর।

 

প্রশ্ন-৪১. 'মোহর' হিসেবে খাদিজাকে তিনি কী দিলেন?

 

উত্তর: বিশটি উট।

 

প্রশ্ন-৪২. খাদিজা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা কি বিধবা ছিলেন?

 

উত্তর: হ্যাঁ, তিনি একজন বিধবা নারী ছিলেন। মুহাম্মদ ছিলেন তাঁর তৃতীয় স্বামী।

 

প্রশ্ন-৪৩. যখন খাদিজা ইন্তিকাল করেন তখন তাঁর বয়স কত ছিল?

 

উত্তর: মৃত্যুকালে খাদিজার বয়স ছিল পয়ষট্টি (৬৫) অপরদিকে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর বয়স তখন পঞ্চাশ।

 

প্রশ্ন-৪৪, খাদিজা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা ছিল? এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মধ্যকার সম্পর্ক কেমন

 

উত্তর: তাদের পঁচিশ বছরের দাম্পত্য জীবনে তারা পরস্পর একটি অন্তরঙ্গ সম্পর্ক গড়েছিলেন।

প্রশ্ন-৪৫. মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য তিনি কী করতেন?

 

উত্তর: তিনি মুহাম্মদ- সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সাধ্যানুযায়ী সাহায্য করতেন এবং বিপদে তাকে সান্তনা দিতেন।

 

প্রশ্ন-৪৬. বিয়ের পর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি ব্যবসায়িক সফরে গিয়েছেন?

 

উত্তর: না, বিয়ের পর তিনি কোনো ব্যবসায়িক সফরে যান নি।

 

প্রশ্ন-৪৭. খাদিজা করেছিলেন? জীবিত থাকাকালীন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আর কাউকে বিয়ে

 

উত্তর: না, খাদিজা জীবিত থাকাকালে তিনি আর কোনো মহিলাকে বিয়ে করেন নি। আবহা

 

প্রশ্ন-৪৮. সমাজে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তখন মানুষ কী বলে জানত?

 

উত্তর: সমাজে তাকে সবাই আল-আমীন (বিশ্বস্ত) বলে জানত।

 

প্রশ্ন-৪৯. তিনি কি কোনো ধরনের শিক্ষা পেয়েছেন? কিংবা তিনি কি পড়াশুনা করেছেন?

 

উত্তর: তিনি প্রাতিষ্ঠানিক কোনো শিক্ষা পান নি। তবে তিনি আল্লাহ প্রদত্ত ওহীর শিক্ষায় সর্বাধিক উচ্চ শিক্ষিত ছিলেন এবং সামাজিক জ্ঞানেও তিনি ছিলেন শ্রেষ্ঠ। তিনি ছিলেন নিরক্ষর।

 

প্রশ্ন-৫০. কিশোর বয়সে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, সেটির নাম কী?

 

উত্তর: রাসূল- সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বয়স যখন মাত্র ১৫ বছর তখন তিনি 'ফিজর' নামক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। যা সংঘটিত হয়েছিল কোরাইশ ও বানু কিনানাহ এবং কোরাইশ আহলোনের মাঝে।

 

প্রশ্ন-৫১. কেন ঐ যুদ্ধকে ফিজর বা ধর্মদ্রোহিতাপূর্ণ যুদ্ধ বলা হয়?

 

উত্তর: কারণ পবিত্র মাসসমূহকে অবমাননা ও অপবিত্র করার কারণে ঐ যুদ্ধকে ফিজর বা ধর্মদ্রোহিতাপূর্ণ ও মর্যাদাহানিকর যুদ্ধ বলা হয়।

 

প্রশ্ন-৫২. খাদিজার গর্ভে মুহামদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কতজন ছেলেমেয়ে জন্ম লাভকরেছিল?

 

উত্তর: খাদিজার রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা গর্ভে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দু'জন ছেলে ও চারজন মেয়ে জন্ম লাভ করেন।

নিম্নে তাদের নাম উল্লেখ করা হলো-

 

১. কাসিম, তিনি শৈশবে ইন্তিকাল করেন।

 

২. আব্দুল্লাহ, যাকে তাইয়্যেব ও তাহির বলা হতো, তিনিও শৈশবে ইন্তিকাল করেন।

 

৩. যাইনাব, আবুল আসের সাথে যার বিয়ে হয়েছিল।

 

৪. রুকাইয়া, প্রথমে আবু লাহাবের ছেলে উতবার সাথে যার বিয়ে হয়, পরবর্তীতে উসমান ইবনে আফফান-এর সাথে বিয়ে হয়।

 

৫. উম্মে কুলসুম, প্রথমে আবু লাহাবের ছেলে উতাইবার সাথে বিয়ে হয়, পরবর্তীতে রুকাইয়ার ইন্তিকালের পর উসমান ইবনে আফফানের সাথে বিয়ে হয়।

 

৬. ফাতিমা আয-যাহারা, আলী ইবনে আবু তালিবের সাথে যার বিয়ে হয়।

 

প্রশ্ন-৫৩. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চাচাদের নাম কী?

 

উত্তর: তারা হলেন হারিস, যুবাইর, আবু তালিব, হামযাহ আবু লাহাব, খিযাক, যাকওয়ান, সাফার ও আব্বাস।

 

প্রশ্ন-৫৪. নবুওয়াতের পূর্বে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম "হিলফুল ফুযুল" নামক যে সংগঠনে যোগদান করেন সেটির লক্ষ্য উদ্দেশ্য কী ছিল?

 

উত্তর: হিলফুল ফুযুলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল যুগ যুগ ধরে তুচছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আরব গোত্রগুলোর মধ্যে চলে আসা রক্তপাত ও যুদ্ধ বিগ্রহের সমাপ্তি ঘটানো ও অসহায়দের অধিকার সংরক্ষণ করা এবং অবিচার ও সহিংসতা দমন করা।

 

প্রশ্ন-৫৫. যৌবনে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেমন ছিলেন?

 

উত্তর: যৌবনকালে তাঁর সামাজিক গুণাবলিতে সবচেয়ে ভালো সমন্বয় ছিল। তাঁর ধ্যান মগ্নতার অভ্যাস ছিল। তিনি মদপান ও আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে জবাই করা পশুর গোশত খাওয়া ও পূজা উৎসবে যাওয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখতেন।

 

প্রশ্ন-৫৬. রাসূল- সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর "মা" আমিনার ইন্তিকালের পর তিনি যাদের "মা" বলে ডাকতেন তারা কারা?

 

উত্তর: তারা হলেন-

 

১. হালিমা-আস-সাদিয়া, যিনি তাকে দুধ পান করিয়েছেন।

 

২. উম্মে আইমান, যিনি ছিলেন তাঁর বাবার-ক্রীতদাসী আর তিনিই রাসূলের বেশি দেখাশুনা করতেন এবং তিনিও নবী-কে দুধ পান করিয়েছিলেন।

 

প্রশ্ন-৫৭. কুরআনে 'মুহাম্মদ' শব্দটি কতবার এসেছে?

 

উত্তর: সর্বমোট চারবার।

 

প্রশ্ন-৫৮. ইঞ্জিলে (বাইবেল পুরাতনে) রাসূল- সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কী নামে উল্লেখ করা হয়েছে?

 

উত্তর: "ফারকালীত" "পারাক্বীত" নামে। (পারাক্রীত শব্দটির অর্থ সহায়, পয়গম্বর, দিশারী আত্মা, নবী, রাসূল ইত্যাদি।)

 

প্রশ্ন-৫৯. রাসূল- সাল্লাল্লাহু আলাইহি এর মামা ছিলেন কারা?

 

উত্তর: তারা হলেন: বনী যুহরা ও বনী আদি ইবনে নাজ্জার।

 

প্রশ্ন-৬০. নবুওয়াতের পূর্বে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কার পথ অনুসরণ করতেন?

 

উত্তর: তিনি নবী 'ইবরাহীম"-এর পথ অনুসরণ করতেন।

 

প্রশ্ন-৬১. তাঁর চাচা আবু তালিক কি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন?

 

উত্তর: না, তিনি ইসলাম কবুল করেননি। তিনি একজন মুশরিক হিসেবে মৃত্যুবরণ করেন।

 

প্রশ্ন-৬২. রাসূল- সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ডাক নাম কী ছিল?

 

উত্তর: তাঁর ডাক নাম ছিল "আবুল কাসিম"। আরবের রীতি অনুযায়ী তার বড় ছেলে "কাসিম" এর নামানুসারে তাকে এ নামে ডাকা হতো।

 

প্রশ্ন-৬৩. কে বলেছিল: 'আমি হলাম দু'জন জবাই করা ব্যক্তির সন্তান"?

 

উত্তর: এ কথাটি বলেছিলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কারণ ইবরাহীম- আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পুত্র ইসমাঈল এবং আব্দুল মুত্তালিবের পুত্র আব্দুল্লাহ এ দুজনকে আল্লাহর

 

পথে কুরবানী (জবাই) করার হুকুম করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে আল্লাহ তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করে তাদেরকে এ কঠিন পরীক্ষা থেকে উদ্ধার করলেন।

 

প্রশ্ন-৬৪. নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নাম উচ্চারিত হলে কী বলা উচিত?

 

উত্তর: তখন, 'সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম' বলা উচিত।

 

• ────── ✾ ──

Bình luận